২৭ জুলাই ২০২৬ | ২২:৫৯
শিল্প, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রতিবন্ধিতা, অন্তর্ভুক্তি এবং পারস্পরিক আন্তঃসংযুক্ততা নিয়ে বিশেষ গ্রিন ড্রিংকস অনুষ্ঠান ‘দ্য তত্ত্বমসি সার্কেল’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশে আয়ারল্যান্ডের অনারারি কনসাল মাসুদ জামিল খান এবং জনে ল্যাবের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠানটি ঢাকাস্থ আয়ারল্যান্ডের অনারারি কনস্যুলেটে অনুষ্ঠিত হয়।
আরও পড়ুন
‘ওর সঙ্গে মাঝেমাঝে রোমান্টিক সিন করতে প্রবলেম হয়ে যায়’
‘গ্রিন ড্রিংকস’ জনে ল্যাবের একটি স্বাক্ষর সংলাপভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে শিল্প, গল্প, সৃজনশীলতা এবং মানবিক অভিজ্ঞতার মাধ্যমে জলবায়ু, পরিবেশ ও প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে কূটনৈতিক অঙ্গন, উন্নয়ন সংস্থা, নাগরিক সমাজ, শিক্ষাঙ্গন, সংস্কৃতি, প্রকৃতি সংরক্ষণ, গণমাধ্যম ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এ সময় বাংলাদেশে স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল সিস্তিয়াগা ওচোয়া দে চিনচেত্রুও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জনে ল্যাবের প্রোগ্রাম লিড ইশরাত বিনতে রউফ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মাসুদ জামিল খান অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে শিল্প, অংশগ্রহণ এবং সম্মিলিত দায়িত্ববোধের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তত্ত্বমসি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ভবিষ্যৎ আমরা একা উত্তরাধিকারসূত্রে পাই না—আমরা তা একসঙ্গে তৈরি করি। শিল্প, অংশগ্রহণ এবং সংলাপের মাধ্যমে আমরা এমন একটি আন্দোলন গড়ে তুলছি, যা আমাদের আন্তঃসংযুক্ততাকে উদযাপন করে এবং মানুষ ও পৃথিবীর জন্য সম্মিলিত উদ্যোগকে অনুপ্রাণিত করে।
জনে ল্যাব ‘দ্য তত্ত্বমসি সার্কেল’ আয়োজন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষকে একত্রিত করার জন্য মাসুদ জামিল খান ও বাংলাদেশে আয়ারল্যান্ডের অনারারি কনস্যুলেটের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
উদ্বোধনী বক্তব্যের পর জনে ল্যাবের নির্বাহী পরিচালক রাতুল দেব ‘তত্ত্বমসি’র দর্শন, শিল্পনির্দেশনা এবং জলবায়ু ন্যায়বিচার, প্রবেশগম্যতা, সংস্কৃতি ও সম্মিলিত দায়িত্ববোধের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমাদের একজনের সঙ্গে যা ঘটে, তা আমাদের সবার সঙ্গেই ঘটে। এই দর্শনের ভিত্তিতে প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ ও ৭ ফুট উঁচু টেরাকোটা ও সিরামিকের একটি জনশিল্পকর্ম নির্মাণ করা হবে।
শিল্পকর্মটি হবে অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক। এতে শিল্পী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী, শিক্ষার্থী, সংস্কৃতিকর্মী এবং বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের অবদান যুক্ত হবে।
আয়োজকরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবাই সমানভাবে অনুভব করে না। জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং সামাজিকভাবে প্রান্তিক মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অংশগ্রহণ সবচেয়ে কম। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই ‘তত্ত্বমসি’ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সন্ধ্যার শেষ পর্বে অংশগ্রহণকারীদের ভবিষ্যৎ শিল্পকর্মে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত এলাকা থেকে সংগৃহীত মাটি দেওয়া হয়। তাদের মানবজাতির দুর্বল হয়ে পড়া বা পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয় সম্পর্ক নিয়ে ভাবতে বলা হয়। পরে তারা মাটির ছোট ছোট প্রতীক, চিহ্ন, শব্দ ও নকশার মাধ্যমে নিজেদের ভাবনা প্রকাশ করেন। সম্মিলিত এই সৃজনশীল অনুশীলনের মাধ্যমে দেখানো হয়, কীভাবে একক কোনো শিল্পীর দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তে বহু মানুষের অংশগ্রহণে একটি শিল্পকর্ম গড়ে উঠতে পারে।
সিবিএম বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ জহিদুর রহমান বলেন, সহ-সৃষ্টি তত্ত্বমসির প্রাণ। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, অর্থবহ প্রতিবন্ধিতা অন্তর্ভুক্তি তখনই সম্ভব, যখন প্রত্যেকের সমানভাবে অবদান রাখার ও অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকে।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও পানি ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত বলেন, সমুদ্র শুধু পানির আধার নয়; এটি জীববৈচিত্র্য এবং কোটি মানুষের জীবিকার উৎস। আমি আশা করি, তত্ত্বমসি সমুদ্রের সৌন্দর্যের পাশাপাশি তা সংরক্ষণের সম্মিলিত দায়িত্বও তুলে ধরবে।
বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেলিগেশনের রেজিলিয়েন্ট লাইভলিহুডস প্রোগ্রাম ম্যানেজার মেহের নিগার ভূঁইয়া বলেন, অর্থবহ অংশীদারত্ব ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাজের কেন্দ্রবিন্দু। তত্ত্বমসি জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কণ্ঠ, গল্প ও সহনশীলতাকে তুলে ধরার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। তাদের জীবিত অভিজ্ঞতাকে সামনে এনে এটি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু-সহনশীল ভবিষ্যৎ নির্মাণে সহায়তা করবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি