১৯৭২ সালে ইসরায়েলের একটি বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলায় অংশ নেওয়া জাপানি অস্ত্রধারী কোজো ওকামাতো লেবাননের রাজধানী বৈরুতে মারা গেছেন। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন (পিএফএলপি) তাঁর মৃত্যুর খবর জানিয়েছে। মৃত্যুকালে ওকামাতোর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।

পিএফএলপি ওকামাতোকে ‘আহমাদ আল-ইয়াবানি’ বা ‘জাপানি আহমাদ’ নামে উল্লেখ করে তাঁকে একজন ‘সহযোদ্ধা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। সংগঠনটি বলেছে, ফিলিস্তিনের জন্য সংগ্রামে তিনি দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ‘অপরিসীম ত্যাগ’ স্বীকার করেছেন।

বিশ্বকাপ দেখতে আসা বাংলাদেশিদের ২২% কানাডায় অ্যাসাইলাম চেয়েছেন এখন পর্যন্ত আরও পড়ুন বিশ্বকাপ দেখতে আসা বাংলাদেশিদের ২২% কানাডায় অ্যাসাইলাম চেয়েছেন এখন পর্যন্ত

১৯৭২ সালে কমিউনিস্টপন্থী জাপানিজ রেড আর্মির (জেআরএ) সদস্য হিসেবে ওকামাতো তেল আবিবের লড বিমানবন্দরে হামলায় অংশ নেন। বর্তমানে বিমানবন্দরটি বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর নামে পরিচিত। ওই হামলায় ২৬ জন নিহত ও ৭৬ জন আহত হয়েছিলেন।

জেআরএ ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং দীর্ঘদিন লেবানন থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করে। সংগঠনটি জাপান এয়ারলাইনসের কয়েকটি বিমান ছিনতাই এবং মালয়েশিয়ায় মার্কিন কনস্যুলেট দখলের মতো আলোচিত হামলার সঙ্গেও জড়িত ছিল।

বিজ্ঞাপন

বিমানবন্দর হামলায় ভূমিকার জন্য ওকামাতো ইসরায়েলে ১৩ বছর কারাভোগ করেন। ১৯৮৫ সালে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি গেরিলাদের মধ্যে বন্দিবিনিময়ের মাধ্যমে তিনি মুক্তি পান। পরে সিরিয়া ও লিবিয়ায় অবস্থানের পর লেবাননে আশ্রয় পান। ইসরায়েলবিরোধী প্রতিরোধ কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ ও ইসরায়েলি কারাগারে নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করে তাঁকে লেবাননে আশ্রয় দেওয়া হয়। পরে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং পিএফএলপির সদস্যদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখেন।

জাপানে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল এবং তাঁকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের সহায়তা চেয়েছিল দেশটির কর্তৃপক্ষ। লেবাননে অবৈধ প্রবেশ ও জালিয়াতির অভিযোগে এক মামলার বিচার চলাকালে ওকামাতো নিজেকে ‘আরব প্রতিরোধযোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দেন।

১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত পিএফএলপি প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) একটি অংশ। সংগঠনটি আরব ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্টের শাখা হিসেবে গড়ে ওঠে এবং ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর জর্জ হাবাশ এটি প্রতিষ্ঠা করেন।