সমকাল প্রতিবেদক ও পটুয়াখালী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬ | ১১:১৪

একাধিক রাজ্যে ধরপাকড়, ককরোচেরা উদ্বিগ্ন আরও পড়ুন একাধিক রাজ্যে ধরপাকড়, ককরোচেরা উদ্বিগ্ন

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা কাজী মিজানুর রহমান লাভলুর বসতবাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গতকাল রোববার পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।

ভুক্তভোগী নেতা বলেছেন, নিরাপত্তার অভাবে তিনি মামলা করতে পারছেন না। তবে আজ সোমবার তিনি আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন। এদিকে বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।

বিজ্ঞাপন

ওই বাড়ির বাসিন্দাদের অভিযোগ, পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরীর ছোট ভাই শাহীন চৌধুরী এবং স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা এ ঘটনায় জড়িত। তবে তারা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

গতকাল জানতে চাইলে ভুক্তভোগী লাভলু কাজী বলেন, ‘নিরাপত্তার অভাবে রোববার মামলা করতে পারিনি। তবে, সোমবার মির্জাগঞ্জ থানায় অথবা আদালতে মামলা করব।’

লাভলু কাজীর স্ত্রী মোসা. মেহেরুন নেছা শিল্পী বলেন, ‘আমার শাশুড়ি অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁকে নিয়ে ঢাকায় গিয়েছিলাম। বাড়িতে হামলার খবর শুনে আমি রাতেই গাড়িতে উঠি। ভোরে এসে দেখি আমার সবকিছু শেষ। ভয়ে কেউ কোনো কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না।’

শিল্পী কাজী আরও বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে বাড়িটি করেছিলাম। ভাঙচুর ও লুটপাট করে সবকিছু আগুনে পুড়িয়ে দিয়ে গেছে। কিন্তু রাজনীতির প্রতিহিংসার শিকার হয়ে আমরা এখন নিঃস্ব।’

মির্জাগঞ্জ থানার ওসি মো. তৌহিদুজ্জামান জানান, এখন পর্যন্ত কেউ মামলার জন্য থানায় আসেননি। অভিযোগ বা মামলা হলে তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত চলছে। জড়িত ব্যক্তিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

আসক বলেছে, নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পরও এ ধরনের সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা আইনের শাসন, জননিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।

গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মানবাধিকার সংস্থাটি জানায়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী গত ১৭ জুলাই গভীর রাতে একদল ব্যক্তি লাভলু কাজীর বাড়িতে হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা প্রথমে লুটপাট করে, পরে বুলডোজার দিয়ে বাড়ির বিভিন্ন অংশ গুঁড়িয়ে দেয় এবং শেষে অগ্নিসংযোগ করে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হামলায় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী জড়িত ছিলেন। তবে অভিযুক্তরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

লাভলু কাজীর বাড়ির জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ আছে। বিষয়টি ইঙ্গিত করে বিবৃতিতে আসক বলেছে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তার প্রতিকার কেবল আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হতে পারে। আদালতের আদেশ বা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কারও বাড়িঘর ভেঙে ফেলা, সম্পদ লুট করা কিংবা অগ্নিসংযোগ করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আইনের শাসনের পরিপন্থি। রাজনৈতিক পরিচয় বা মতাদর্শ নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের জীবন, সম্পদ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।

ঘটনার নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত নিশ্চিত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আসক।