ছবির উৎস, Gallo Images via Getty

বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগরের একটি নৌপথ নিয়ে ইরানের মিত্রদের হুমকি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আরও বিঘ্ন সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি করেছে।

বিশ্বকাপ দেখতে আসা বাংলাদেশিদের ২২% কানাডায় অ্যাসাইলাম চেয়েছেন এখন পর্যন্ত আরও পড়ুন বিশ্বকাপ দেখতে আসা বাংলাদেশিদের ২২% কানাডায় অ্যাসাইলাম চেয়েছেন এখন পর্যন্ত

ইরান এরই মধ্যে কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে, যার ফলে পারস্য উপসাগর থেকে জাহাজগুলো চলাচল কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রধান মিত্ররা আরব উপদ্বীপের অন্য প্রান্তে সমুদ্রপথে আরেকটি নতুন ফ্রন্ট খোলার হুমকি দিচ্ছে।

তেহরান-সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি, যারা ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করে, বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সৌদি আরবের বিরুদ্ধে একটি 'সামুদ্রিক অবরোধ' ঘোষণা করেছে।

বিজ্ঞাপন

এই নৌ অবরোধ 'লঙ্ঘন' করার কারণে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে দুটি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার দাবিও করেছে হুথিরা।

তাদের হুমকির পর সোমবার থেকে লোহিত সাগরে বেশকিছু তেলবাহী ট্যাংকার ইউ-টার্ন নিয়েছে বলেও জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত তথ্য থেকে জানা গেছে।

গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি এডেন উপসাগর ও লোহিত সাগরকে যুক্ত করেছে এবং সুয়েজ খালের দিকে যাওয়ার অন্যতম পথও এটি। বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় ১২ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।

সোমবার, ২০শে জুলাই, হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারেয়া বলেন, হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বন্দর ও বিমানবন্দর অবরোধের প্রতিশোধ হিসেবে নৌ অবরোধের এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

জবাবে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অভিযোগের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, দেশটি "আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে নিজেদের জাহাজ সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে"।

২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা থেকে সরকারকে উৎখাত করার পর ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, যা দেশটিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে।

২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন আরব রাষ্ট্রগুলোর জোট উৎখাত হওয়ার সরকারকে পুনর্বহাল করার চেষ্টা করে হস্তক্ষেপ করলে সংঘাত আরও তীব্র হয়।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতে এক লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং দুই কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ কোনো না কোনো ধরনের সহায়তার প্রয়োজন নিয়ে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটের মধ্যে পড়েছেন।

বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল ফলো করতে এখানে ক্লিক/ট্যাপ করুন

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি ঘোষণা করেছেন যে, ঘোষিত নৌ অবরোধ লঙ্ঘন করার কারণে গোষ্ঠীটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে দুটি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

তিনি আরও বলেন, হুথিরা তাদের নৌ অভিযান অব্যাহত রাখবে এবং তারা যেটিকে "অবরোধের জবাবে অবরোধ" নীতি বলে বর্ণনা করেছেন, তা বাস্তবায়নও চালিয়ে যাবে।

এদিকে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের ঘনিষ্ঠ ফার্স নিউজ এজেন্সি বৃহস্পতিবার সকালে হুথিদের উদ্ধৃত করে লিখেছে, "বিশেষ একটি সামরিক অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে আমরা 'এনসেলা' ও 'লাইলিয়া' নামের দুটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারকে লক্ষ্যবস্তু করেছি, কারণ তারা সৌদি জাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ করার নির্দেশনা লঙ্ঘন করেছে।"

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস অর্গানাইজেশন (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, বুধবার রাতে সৌদি আরবের আল-শাকিক উপকূল থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে একটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।

সংস্থাটির মতে, হামলায় জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়, তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

একই সময়ে কিছু ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে একটি জ্বলন্ত তেলবাহী ট্যাংকার এবং তার ডেকে বড় ধরনের আগুন দেখা যাচ্ছে।

ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সোমবার সৌদি আরবের বিরুদ্ধে "নৌ অবরোধ" ঘোষণার পর থেকে ইয়েমেনের কাছাকাছি এলাকায় অন্তত সাতটি তেলবাহী ট্যাংকার ইউ-টার্ন নিয়েছে বলে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত তথ্য থেকে জানা গেছে।

সব জাহাজই সৌদি আরবের বন্দরগুলোর দিকে যাচ্ছিল অথবা সেখান থেকে আসছিল। অবরোধ ঘোষণার পর তারা হঠাৎ করেই নিজেদের গতিপথ পরিবর্তন করে।

সামুদ্রিক গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, হুথিরা অবরোধ ঘোষণা করার আগের দিন বাব আল-মান্দেব প্রণালি হয়ে ২০টি জাহাজ লোহিত সাগরে প্রবেশ করে এবং ২২টি জাহাজ সেখান থেকে বেরিয়ে যায়।

প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, হুথিরা কি সত্যিই সৌদি জাহাজের জন্য বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে?

লন্ডনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ফারেয়া আল-মুসলিমি বিবিসি নিউজ ওয়ার্ল্ড সার্ভিসকে বলেন, এই গোষ্ঠীর এমন বিঘ্ন ঘটানোর সামরিক সক্ষমতা রয়েছে।

তিনি বলেন, "হুথিদের কাছে মাইন রয়েছে এবং গত কয়েক বছরে তারা তাদের সামুদ্রিক ড্রোন সক্ষমতা উন্নত করেছে।"

পূর্ণাঙ্গ অবরোধ কার্যকর না করেও তারা সমস্যা তৈরি করতে পারে।

তিনি বলেন, "তাদের শুধু একটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানলেই হবে। প্রতীকী কিছু হলেও তা বীমা প্রতিষ্ঠান, নৌপরিবহন কোম্পানি ও তেল সরবরাহকারীদের মধ্যে প্রয়োজনীয় আতঙ্ক সৃষ্টি করবে। মানুষ যতটা ভাবছে, তার চেয়েও বেশি ক্ষতি হবে।"

"যুদ্ধের পর ইরানের কৌশল হলো যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্রদের জন্য দুর্ভোগ সৃষ্টি করা। তারা সবাইকে এই সংঘাতে টেনে আনতে চাইছে।"

ইরান এর আগেও "অন্য ফ্রন্ট খোলার" হুমকি দিয়েছে।

ইয়েমেন বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আনওয়াত আল-আনসি একমত যে, হুথিরা সৌদিদের সংঘাতে টেনে আনার জন্য তেহরানের নির্দেশই বাস্তবায়ন করছে।

আনসি বিবিসি নিউজ ওয়ার্ল্ড সার্ভিসকে বলেন, "ইরান এই উত্তেজনা বাড়াতে চায়, কারণ এখন তাদের হাতে এটিই একমাত্র বিকল্প। সৌদিরা তেহরানের সঙ্গে সরাসরি বিরোধে জড়ানো এড়িয়ে গেছে। কিন্তু হুথিরা যদি সত্যিই হামলা চালায়, তাহলে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় তাদের পদক্ষেপ নিতেই হবে।"

বাব আল-মান্দেব প্রণালি লোহিত সাগরের আরব ভূখণ্ডের তীরে ইয়েমেন এবং আফ্রিকা অঞ্চলের তীরে জিবুতি ও ইরিত্রিয়ার মাঝখানে অবস্থিত।

ভারত মহাসাগর ও এডেন উপসাগর থেকে আসা জাহাজগুলোকে সুয়েজ খালে প্রবেশ করতে হল