কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে নিজের বাবা ও মেয়ের জানাজা সম্পন্ন করেছেন তুজাম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি। বাবাকে শেষ বিদায় জানিয়ে বাড়ি ফেরার পথেই মেয়ের মৃত্যুর খবর পান তিনি। একই দিনে পরিবারের দুই সদস্যকে হারানোর ঘটনায় গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার দৌলতপুর পূর্বপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

শিল্প, জলবায়ু ন্যায়বিচার ও অন্তর্ভুক্তিকে একসূত্রে আনল ‘দ্য তত্ত্বমসি সার্কেল’ আরও পড়ুন শিল্প, জলবায়ু ন্যায়বিচার ও অন্তর্ভুক্তিকে একসূত্রে আনল ‘দ্য তত্ত্বমসি সার্কেল’

পরিবারের সদস্যরা জানান, দৌলতপুর পূর্বপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা ফুলবাস আলী (৭২) বার্ধক্যজনিত কারণে গতকাল শুক্রবার বিকেলে মারা যান। আজ শনিবার সকাল ১০টায় গ্রামের মানিকদিয়ার কবরস্থানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাসের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা কবরস্থান থেকে বাড়ি ফেরার আগেই ফুলবাস আলীর নাতনি মুন্নি খাতুনের (২৩) মৃত্যুর খবর পান।

স্বজনেরা জানান, শুক্রবার গভীর রাতে দাদার মরদেহের পাশে বসে বিলাপ করতে করতে অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান মুন্নি। পরে তাঁকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতির সময় আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মুন্নির মৃত্যু হয়।

বিজ্ঞাপন

মুন্নির বাবা তুজাম উদ্দিন বলেন, ‘সকালে বাবার দাফন শেষে বাড়ি ফেরার পথে জানতে পারি, আমার মেয়ে মুন্নি আর নেই। একই দিনে বাবা ও মেয়েকে হারিয়ে আমি দিশাহারা হয়ে পড়েছি।’

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে দৌলতপুর থানাপাড়া গ্রামের মোস্তাকের সঙ্গে মুন্নির বিয়ে হয়। কয়েক দিন ধরে তিনি টাইফয়েডে ভুগছিলেন। পাশাপাশি আগে থেকেই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন। তাঁকে আজ বিকেলে মানিকদিয়ার কবরস্থানে দাদা ফুলবাস আলীর কবরের পাশেই দাফন করা হয়েছে।