২৪ জুলাই ২০২৬ | ০৯:২১

সিলেটের কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে দুই পরিবহন শ্রমিক হত্যা মামলার তদন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার আগেই অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন আদালতে জমা হয়েছে। এতে প্রধান আসামিসহ চার প্রভাবশালী পরিবহন নেতাকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। গত ১০ জুন আদালতে অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন দেওয়া হলেও গত বুধবার বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর থেকে বাদী পক্ষ ও সাধারণ শ্রমিকের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

আজ রাতেই অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন নাহিদ, আগে যাচ্ছেন তাসকিনও আরও পড়ুন আজ রাতেই অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন নাহিদ, আগে যাচ্ছেন তাসকিনও

গত ২৭ এপ্রিল সিলেট-জগন্নাথপুর রুটের পরিবহন সমিতির আহ্বায়ক কমিটি গঠন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। এতে আহত হয়ে মারা যান মিনিবাসের চালক দেলোয়ার হোসেন ও হেলপার রিপন আহমেদ।

গত ৬ মে নিহত রিপনের বাবা গোলাপগঞ্জের রনকেলী গ্রামের ছাবলু মিয়া বাদী হয়ে দক্ষিণ সুরমা থানায় ২৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৫০-৬০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এতে প্রধান আসামি করা হয় সিলেট জেলা বাস-মিনিবাস-কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মইনুল ইসলামকে। আসামি তালিকায় ছিলেন শ্রমিক নেতা আলী আকবর রাজন, মিলাদ আহমেদ রিয়াজ, শামসুল হক মানিকসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী।

বিজ্ঞাপন

গত ১০ জুন দক্ষিণ সুরমা থানার এসআই মো. মফিজুর রহমান ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ এ ধারায় আদালতে মামলাটির অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। এতে প্রধান আসামি ময়নুল ইসলাম, ২ নম্বর আসামি আলী আকবর রাজন, ৬ নম্বর আসামি আব্দুস শহিদ ও সাত নম্বর আসামি সামসুল হক মানিককে ঘটনায় সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ার কথা উল্লেখ করে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

বাদী ছাবলু মিয়া বলেন, ‘আমার ছেলেকে প্রকাশ্যে সবার সামনে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হলো। মূল নির্দেশদাতা ও অভিযুক্তদের নাম স্পষ্ট করে এজাহারে দেওয়ার পরও তাদের গ্রেপ্তার তো দূরের কথা, এখন উল্টো তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই তাদের খালাস দেওয়ার সুপারিশ করছে।’

বাদীর আইনজীবী সজিবুল ইসলামের ভাষ্য, পুলিশের এই তদন্তে গাফিলতি আছে। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পিবিআই বা সিআইডিতে হস্তান্তর প্রয়োজন। প্রধান আসামিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনও জরুরি।

এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা মফিজুর রহমান বলেন, এটি অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন। আরও অনুসন্ধানের সুযোগ রয়েছে। তদন্তে যাদের নাম বাদ পড়েছে বা যাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে, তাদের সংযুক্ত করা যাবে।