চায়ের দোকানেই জ্ঞানচর্চার আসর। ছবি: সমকাল

নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি

নিপীড়নের বিরুদ্ধে মশাল জ্বেলে গানে গানে প্রতিবাদ শিক্ষার্থীদের আরও পড়ুন নিপীড়নের বিরুদ্ধে মশাল জ্বেলে গানে গানে প্রতিবাদ শিক্ষার্থীদের

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬ | ১১:৪৬

চায়ের দোকান মানেই ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে চুমুক, গল্প-আড্ডা, টেলিভিশন দেখা কিংবা মোবাইল ফোনে ব্যস্ত সময় কাটানো। কিন্তু শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রূপনারায়নকুড়া ইউনিয়নের মাথাফাটা বাজারের একটি ছোট্ট চায়ের দোকানে দেখা মেলে এক ভিন্ন চিত্র। এখানে চায়ের সঙ্গে ক্রেতাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বই। আড্ডার বদলে অনেকেই ডুবে যান পড়ার জগতে।

বিজ্ঞাপন

চায়ের দোকানের একপাশে সারি করে সাজানো রয়েছে বিভিন্ন ধরনের বই। কেউ চা পান করতে করতে কয়েক পৃষ্ঠা পড়ে নিচ্ছেন, কেউ আবার দীর্ঘ সময় ধরে বইয়ে চোখ রেখে সময় কাটাচ্ছেন। ছোট্ট এই উদ্যোগ স্থানীয়দের কাছে এখন পরিচিত ‘পথ পাঠাগার’ নামে।

এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের উদ্যোক্তা তৌফিকুর রহমান খোকন। একসময় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। সেখান থেকেই বই পড়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে। পরে নিজের সেই অভ্যাস অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে দিতে ২০২৫ সালে চায়ের দোকানের পাশেই গড়ে তোলেন পাঠাগারটি।

শুরুতে হাতে গোনা কয়েকটি বই দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাঠাগারটি স্থানীয়দের আগ্রহের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। বর্তমানে এখানে দেড় শতাধিক বই রয়েছে। গল্প-উপন্যাস, মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস, জীবনীসহ নানা বিষয়ের বই পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন পাঠকরা।

প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত পাঠাগারটিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, তরুণ, চাকরিজীবী এমনকি বয়োজ্যেষ্ঠরাও আসেন। অনেকেই চা বা কফির কাপে চুমুক দিতে দিতেই বই পড়েন। স্থানীয়দের মতে, মোবাইল ফোনে সময় নষ্ট করার পরিবর্তে বইয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে এ উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

সংগঠক ও নিয়মিত পাঠক রাসেল মিয়া বলেন, গ্রামের একটি চায়ের দোকানে এমন পাঠাগার সত্যিই ব্যতিক্রমী। এখানে এসে বই পড়তে ভালো লাগে। অনেক তরুণ এখন বইয়ের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে। এমন উদ্যোগ আরও ছড়িয়ে পড়া উচিত।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, চায়ের দোকানে পাঠাগার হবে, আগে ভাবিনি। এখন যারা এখানে আসেন, তাদের অনেককেই চায়ের ফাঁকে বই পড়তে দেখা যায়। এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।

উদ্যোক্তা তৌফিকুর রহমান খোকনের বলেন, মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার তরুণদের বই থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। সেই চিন্তা থেকেই এই পাঠাগার। কেউ যদি চা খেতে এসে কয়েক পৃষ্ঠা বইও পড়ে, সেটাই আমার বড় প্রাপ্তি। ভবিষ্যতে আরও বই সংগ্রহ করে পাঠাগারটি সমৃদ্ধ করতে চাই।

স্থানীয়দের বিশ্বাস, প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই ছোট্ট পাঠাগার শুধু একটি চায়ের দোকানের উদ্যোগ হয়েই থাকবে না, বরং গ্রামীণ জনপদে বই পড়ার সংস্কৃতি গড়ে তোলার একটি অনুকরণীয় মডেল হয়ে উঠতে পারে।