দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলমান রাখার প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ ও পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে ঢাকাসহ বাংলাদেশের কয়েকটি জায়গায় বিক্ষোভ হয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদেরও দেখা গেছে।

নিপীড়নের বিরুদ্ধে মশাল জ্বেলে গানে গানে প্রতিবাদ শিক্ষার্থীদের আরও পড়ুন নিপীড়নের বিরুদ্ধে মশাল জ্বেলে গানে গানে প্রতিবাদ শিক্ষার্থীদের

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পাশাপাশি তারা আরো দুটি দাবি তুলেছে। সোমবার যারা পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পায়নি তাদের পরীক্ষা নেওয়া এবং বন্যা বা জলাবদ্ধতা পুরোপুরি না কাটা পর্যন্ত পরীক্ষা বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী পরীক্ষার্থীদের 'ফার্মের মুরগী' বলেছেন দাবি করেও তারা প্রতিবাদ করেছেন।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে এগারোটা থেকে প্রথমে রাজধানী ঢাকা সায়েন্স ল্যাব মোড়ে বিক্ষোভ হয়। এ সময় ধানমন্ডি থেকে নিউ মার্কেটের দিকে যাওয়ার পথে যানজটের সৃষ্টি হয়।

একপর্যায়ে সড়কেই গোল হয়ে বসে অবস্থান নেন বিক্ষোভকারীরা।

প্রথমে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা এই সমাবেশের আয়োজন করলে পরে এতে অন্যান্য কলেজের শিক্ষার্থীদেরও অংশ নিতে দেখা গেছে।

দেড়টার দিকে ওই স্থান থেকে বিক্ষোভকারীরা সরে গিয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান নেন। দুপুর প্রায় তিনটা পর্যন্ত তাদের সেখানে দেখা গেছে।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

অন্যদিকে, বেলা সাড়ে ১২টায় উত্তরায় বিএনএস সেন্টারের সামনেও সড়ক অবরোধ করে সেখানকার বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। এ সময় বিমান বন্দরের দিকে যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে, মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নে পরীক্ষা কেন পেছানো হয়নি এবং প্রশ্নপত্রের ভুল নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন।

তিনি বলেন, ডিসি, ইউএনও ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাথে কথা বলে 'বৃষ্টি হবে না' এমন তথ্য পাওয়ার পরে সোমবারের পরীক্ষা নেওয়া হয়। এদিন সারাদেশে কেবল কুমিল্লার একটি পরীক্ষা কেন্দ্রেই বন্যার পানি ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

"সারা বাংলাদেশের ডিসিদের সাথে কথা বলেছি এবং ইউএনওদের সাথে কথা বলেছি। তারা বলেছে যে, কোথাও কোনো দুর্যোগ ঘটেনি। একটিই শুধু কুমিল্লা মহিলা কলেজে ঘটেছে," বলেন তিনি।

এদিকে, সোমবারের পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষায় কঠিন প্রশ্নে পরীক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না বলে রাতেই এক গণবিজ্ঞপ্তি দেয় আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, "প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।"

উল্লেখ্য, বন্যা ও দুর্যোগময় পরিস্থিতির কারণে শনিবারই চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ১৬ই জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছিল।

End of বিবিসি বাংলার অন্যান্য সংবাদ

সোমবার বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বন্যার মধ্যেই বিভিন্ন জেলায় পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেন।

কোনো কোনো জায়গায় পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগের বিষয়টি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উঠে আসলে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে বিভিন্ন জনকে পোস্ট করতে দেখা যায় সামাজিক মাধ্যমে।

এরপরই মঙ্গলবার রাজধানীর একাধিক পয়েন্টে বিক্ষোভ দেখা যায়।

সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে সরকারি বাংলা কলেজ, আইডিয়েল কলেজ, সোহরাওয়ার্দী কলেজ, সিটি কলেজ, গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি কলেজসহ বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশ নিতে দেখা গিয়েছে বলে জানিয়েছেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজন সাংবাদিক জানিয়েছেন।

সকালে অবস্থান নিয়ে তাদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা যায়।

বিক্ষোভকারী- "তুমি কে, আমি কে, ফার্মের মুরগী, ফার্মের মুরগী", "দফা এক দাবি এক, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ" এমন নানা স্লোগান দিতে শোনা যায়।

সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে কয়েকজন পরীক্ষার্থী তাদের ক্ষোভের কথা জানান এবং তাদের নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন।

একজন পরীক্ষার্থী দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পরীক্ষা স্থগিত রাখার দাবি জানান।

তিনি বলেন, "আমাদের শিক্ষামন্ত্রী, ওনার যে সাংগঠনিক দুর্বলতা। কুমিল্লা শহর পানিতে ডুবে গেছে, আমাদের অনেক ভাই-বোনেরা কুমিল্লায় পরীক্ষা দিতে পারে নাই। এর ওপরে পরীক্ষায় প্রশ্নের প্যাটার্ন হইছে কড়া লেভেলের। পরীক্ষা স্থগিত করা দরকার ছিল এমন পরিস্থিতিতে। আমাদের মেইন দাবি বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হোক।"

আরেক শিক্ষার্থী শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে বলেন, "এখানে আমরা এসেছি মিলনের পদত্যাগের দাবিতে। কয়েকদিন ধরে দেশে যে দুর্বিসহ অবস্থা, এই অবস্থার মধ্যেও তিনি ইন্টার (এইচএসসি) পরীক্ষা চালু রেখেছেন। যেখানে সারা বাংলাদেশ ডুবে গিয়েছে, সেখানে তিনি পরীক্ষা চালু রেখেছেন। কালকে দেখেছি পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় একজন পরীক্ষার্থী ড্রেনে পড়ে গেছেন। আমাদের দফা এক, দাবি এক, তার পদত্যাগ চাই।"

একপর্যায়ে সায়েন্স ল্যাবরেটরির এই সমাবেশে পরীক্ষার্থীদের কিছু সংখ্যক অভিভাবককেও অংশ নিতে দেখা গিয়েছে।

একটি গণমাধ্যমে একজন অভিভাবক নিজেকে পরীক্ষার্থীর মা উল্লেখ করে তাদের দাবির সাথে শরিক হয়েছেন বলে জানান।

তিনি বলেন, "এই বিরূপ পরিস্থিতি, বিরূপ প্রকৃতি, বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সিদ্ধান্ত বলেছে, সমন্বিত প্রশ্নে পরীক্ষা হবে, সেটাও হুট করে নেওয়া হচ্ছে। খুব বেশি সময় আমাদের বাচ্চারা পায়নি। তারপরে যখন পরীক্ষা হচ্ছে তার কয়েকদিন আগেও বলেছে, যদি কোনো জায়গায়, কোনো কেন্দ্রে সমস্যা হয় তাহলে সারা বাংলাদেশের পরীক্ষা আবার নেওয়া হবে, যেহেতু অভিন্ন প্রশ্নপত্রের কথা বলেছে।"

তিনি দাবি করেন, সোমবারের পরীক্ষায় ১৯ হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নেয়নি। এই দায় রাষ্ট্রের বলে উল্লেখ করেন তিনি।

"প্রশ্নে ভুল, যাতায়াত ব্যবস্থায় সমস্যা। গতকালের কথা শুধু বলি, ১৯ হাজার বাচ্চা পরীক্ষায় বসতে পারেনি। এই দায় কার? এই দায় রাষ্ট্রের, এই দায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের, এই দায় অবিবেচকের মতো নেওয়া সিদ্ধান্তের। আমি এটা