২০ জুলাই ২০২৬ | ০৫:৪৭

‘ফল খান দেশি, বল পান বেশি’— গ্রামীণ জনপদের এই অতি পরিচিত প্রবাদটি শহরে জীবনে প্রায় বিস্মৃত হতে চলেছে। বিদেশি ফলের ভিড়ে দেশি ও পুষ্টিকর ফলের স্বাদ এখন অনেকটাই দুষ্প্রাপ্য। নগরজীবনের সেই যান্ত্রিকতা ছাপিয়ে দেশি ফলের সুবাস ও স্বাদ ছড়িয়ে দিতে সুপ্রিম কোর্টে আয়োজন করা হয় এক বর্ণাঢ্য ‘ফল উৎসব’।

একাধিক রাজ্যে ধরপাকড়, ককরোচেরা উদ্বিগ্ন আরও পড়ুন একাধিক রাজ্যে ধরপাকড়, ককরোচেরা উদ্বিগ্ন

গতকাল রোববার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে আইন, বিচার ও সংবিধান বিষয়ক সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন ল' রিপোর্টার্স ফোরাম (এলআরএফ) এই আনন্দঘন উৎসবের আয়োজন করে। সংগঠনের মিলনায়তনে আয়োজিত এই উৎসবে আম, কাঁঠাল, আনারস, করমচা, জাম্বুরা, কলা, আমড়া, পেয়ারা, গাব, লটকনসহ অন্তত ১৫ পদের বাহারি দেশি ফলের পসরা সাজানো হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান আকর্ষণ ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা। উৎসবে অংশ নেন বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর, বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান, বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার, বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথ, বিচারপতি বশির উল্লাহ ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এম আর হাসান। এ সময় তাঁরা সুস্বাদু দেশি ফলের স্বাদ গ্রহণ করেন এবং এমন আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

বিজ্ঞাপন

সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রেজিস্ট্রার জেনারেল (ভারপ্রাপ্ত) ও হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার নুরুল আমিন বিপ্লব, আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার আশিকুল খবির এবং হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার (বিচার) মোহাম্মদ শরীফুর রহমান।

আইন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে উৎসবটি মিলনমেলায় পরিণত হয়। উপস্থিত ছিলেন বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন এমপি, বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ও সুপ্রিম কোর্ট বার সম্পাদক মোহাম্মদ আলী।

এছাড়া সিনিয়র আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু, শেখ আওসাফুর রহমান বুলু, বার কাউন্সিলের সদস্য মোহাম্মদ শিশির মনির, নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম, মাহফুজুর রহমান মিলন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী কামরুল ইসলাম সজল ও সাবেক জেলা ও দায়রা জজ শাহজাহান সাজুসহ প্রায় আড়াই শতাধিক আইনজীবী ও গণমাধ্যমকর্মী উৎসবে শামিল হন।

এলআরএফ সভাপতি মুহাম্মদ ইয়াছিন ও সাধারণ সম্পাদক আরাফাত মুন্নার সার্বিক নির্দেশনায় এবং ফল উৎসব বাস্তবায়ন উপ-কমিটির আহ্বায়ক আবু সালেহ রনি ও সদস্য সচিব তানভীর আহমেদের তত্ত্বাবধানে উৎসবটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিআরইউর সাবেক সভাপতি ইলিয়াস হোসেন, এলআরএফের সাবেক সভাপতি আশুতোষ সরকার, হাসান জাবেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী আবদুল হান্নান, দিদারুল আলম দিদার, আহাম্মেদ সরোয়ার হোসেন ভূঞাঁ প্রমুখ। বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দও এ সময় আগত অতিথিদের আপ্যায়নে ব্যস্ত সময় পার করেন।

উৎসবে আসা অতিথিরা বলেন, যান্ত্রিক জীবনে দেশি ফলের কদর কমে যাচ্ছে। এ ধরনের আয়োজন দেশি ফলের ঐতিহ্য ধরে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।