গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক পথসভায় সমাপনী বক্তব্যের শেষে ‘জয় বাংলা’ উচ্চারণ করেছেন অনুষ্ঠানের সভাপতি ও এনসিপির সাদুল্লাপুর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক শফিজল ইসলাম। ঘটনাটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৫৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, বক্তব্যের শেষদিকে শফিজল ইসলাম বলেন, ‘আমি সাদুল্লাপুর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের নির্বাচনের জন্য বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলছি। ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ইনশা আল্লাহ, আপনারা সহযোগিতা করলে আমাকে কেউ ঠেকাতে পারবে না। এখান থেকে আধা কিলোমিটার দূরেই জামালপুর ইউনিয়ন। আপনারা সহযোগিতা করলে চেয়ারম্যান পদে কেউ আমাকে ঠেকাতে পারবে না। এই বলে আমার বক্তব্য শেষ করছি। খোদা হাফেজ, জয় বাংলা।’

শিল্প, জলবায়ু ন্যায়বিচার ও অন্তর্ভুক্তিকে একসূত্রে আনল ‘দ্য তত্ত্বমসি সার্কেল’ আরও পড়ুন শিল্প, জলবায়ু ন্যায়বিচার ও অন্তর্ভুক্তিকে একসূত্রে আনল ‘দ্য তত্ত্বমসি সার্কেল’

‘জয় বাংলা’ উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গেই মঞ্চে উপস্থিত কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের মধ্যে ফিসফাস ও আলোচনা শুরু হয়। কিছুক্ষণ পর শফিজল ইসলাম মঞ্চ ত্যাগ করেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা সদরের শহীদ মিনার চত্বরে এনসিপির গাইবান্ধা জেলা শাখার উদ্যোগে এ পথসভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন শফিজল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

পথসভায় বক্তব্য দেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, কেন্দ্রীয় নেতা নাজমুল হাসান, সুমাইয়া ফারজানা এবং গাইবান্ধা জেলা শাখার আহ্বায়ক খাদেমুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে তাঁর কবর জিয়ারত শেষে ঢাকা ফেরার পথে বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা ওই পথসভায় অংশ নেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ।

ঘটনার বিষয়ে জানতে শফিজল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে এনসিপির গাইবান্ধা জেলা শাখার আহ্বায়ক খাদেমুল ইসলাম বলেন, ‘শফিজল ইসলাম আগে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এলাকায় তাঁর জনপ্রিয়তা থাকায় তাঁকে উপজেলা শাখার আহ্বায়ক করা হয়েছে। তিনি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জামালপুর ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিপুলসংখ্যক মানুষের সামনে বক্তব্য দেওয়ার অভিজ্ঞতা না থাকায় তিনি অসাবধানতাবশত “জয় বাংলা” বলে ফেলেছেন। এটি অনিচ্ছাকৃত ভুল ছিল।’

এদিকে, পথসভার মঞ্চে উপস্থিত নেতা-কর্মীরা জয় বাংলা উচ্চারণ শুনে বিস্মিত হয়ে পড়েন। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে এ বিষয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।