২২ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৩৫ | আপডেট: ২২ জুলাই ২০২৬ | ১০:২০

আগের চার দিন ধরে রাজপথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগের চালানো হত্যাযজ্ঞে ২০২৪ সালের ২২ জুলাই ছাত্র-জনতা পিছু হটতে বাধ্য হয়। রাজপথ থেকে হটানোর পর আন্দোলনকারীদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শুরু করে ‘ব্লক রেইড’। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সহায়তায় বিভিন্ন এলাকা ঘেরাও করে ঘরে ঘরে খোঁজা হয় আন্দোলনকারী ছাত্র রয়েছে কিনা।

একাধিক রাজ্যে ধরপাকড়, ককরোচেরা উদ্বিগ্ন আরও পড়ুন একাধিক রাজ্যে ধরপাকড়, ককরোচেরা উদ্বিগ্ন

২১ জুলাই রাত থেকে ২৪ ঘণ্টায় বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সাধারণ শিক্ষার্থীসহ প্রায় ১ হাজার ২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় ১৬৪টি। পুলিশ ও র‌্যাব শুধু ঢাকাতেই গ্রেপ্তার করে ৫১৬ জনকে। ২২ জুলাই পর্যন্ত টানা পঞ্চম দিন সারাদেশ ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন ছিল। আগের দিনগুলোতে গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছয়জনের মৃত্যু হয়।

দেশের বিভিন্ন স্থানে সেনা সদস্য, বিজিবি ও পুলিশের ব্যাপক টহল দেখা যায় এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে সাঁজোয়া যান (এপিসি) মোতায়েন রাখা হয়। আকাশে সার্বক্ষণিক চক্কর কাটে হেলিকপ্টার।

বিজ্ঞাপন

হাসপাতালে স্বজনদের আহাজারি

আগের দিনগুলোর মতো ২২ জুলাইয়েও আহতদের ভিড় ছিল হাসপাতালে। হাসপাতালগুলোতে তখনও হাজারো গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ চিকিৎসাধীন ছিলেন। হাসপাতালের মর্গ ও করিডোরে স্বজনদের আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় মানুষ নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজ না পেয়ে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে হন্যে হয়ে ছুটে বেড়াচ্ছিলেন।

আগের দিন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সরকারি চাকরিতে ৯৩ শতাংশ মেধাভিত্তিক নিয়োগের রায় দেওয়ার পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক কোটা সংস্কারের চূড়ান্ত সারসংক্ষেপ তৈরি করে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ কার্যালয়ে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে জরুরি মতবিনিময় করেন এবং এই কোটা সংস্কার-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের সারসংক্ষেপে সই করেন। তবে আন্দোলনকারীরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত অনেক দেরিতে এসেছে এবং এত শিক্ষার্থীর রক্তের পর শুধু কোটা সংস্কারে সংকট কাটবে না।

৪ দফা ও ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম

কারফিউর কারণে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়কদের বড় অংশ আত্মগোপনে কিংবা চিকিৎসাধীন থাকা সত্ত্বেও সরকারের প্রতি নতুন আলটিমেটাম দেওয়া হয়। সমন্বয় নাহিদ ইসলাম,  ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত ঘোষণা করে চারটি প্রধান দাবিতে সরকারকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দেন।

দাবিগুলো ছিল অবিলম্বে সারা দেশে ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ চালু করা; কারফিউ প্রত্যাহার করে রাজপথ থেকে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সরিয়ে নেওয়া; বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্দোলনরত সমন্বয়ক ও শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়ন ও গ্রেপ্তার বন্ধ করা।

অচল জনজীবন ও ছুটির মেয়াদ বৃদ্ধি

টানা কারফিউর মাঝে ২২ জুলাই দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মাত্র ৪ ঘণ্টার জন্য সাধারণ মানুষকে জরুরি প্রয়োজনীয় কাজ সারার জন্য কারফিউ শিথিল করা হয়। এই সময়ে ব্যাংক, কাঁচাবাজার ও জরুরি সেবার সামনে সাধারণ মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। ইন্টারনেট না থাকায় ব্যাংকগুলোর অনলাইন সেবা এবং এটিএম বুথ বন্ধ থাকায় তীব্র অর্থনৈতিক ভোগান্তি দেখা দেয়। গ্যাস, পানি, বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটারের বিল পরিশোধ করতে না পারায় ভোগান্তিতে পড়েন লাখো মানুষ। এর মাধ্যেই সাধারণ ছুটির মেয়াদ আরও এক দিন বাড়িয়ে ২৩ জুলাই পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।