ছবির উৎস, Ajay Aggarwal/Hindustan Times via Getty Images
ককরোচ জনতা পার্টির 'সংসদ চলো' অভিযান ঘিরে দিনভর উত্তপ্ত রইল দিল্লির প্রাণকেন্দ্র। চলল টিয়ার গ্যাস, পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়ালেন আন্দোলনকারীরা।
আরও পড়ুন
একাধিক রাজ্যে ধরপাকড়, ককরোচেরা উদ্বিগ্ন
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা চেয়ে ককরোচ জনতা পার্টি ২০শে জুলাই সংসদ ভবন অভিযানের ডাক দিয়েছিল। এই ডাকে সাড়া দিয়ে রোববার ১৯শে জুলাই রাত থেকেই অভিযানের জন্য জড়ো হতে শুরু করেছিলেন ভারতের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা আন্দোলনকারীরা।
সোমবার, ২০শে জুলাই থেকে ভারতের সংসদে শুরু হয়েছে বর্ষাকালীন অধিবেশন। এই দিনটিকেই তাদের বার্তা দেওয়ার জন্য বেছে নিয়েছিল অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি।
সম্প্রতি ভারতের চিকিৎসাক্ষেত্রে ভর্তির পরীক্ষা নিট-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ায় সারা দেশ থেকে ২১ জন ছাত্রছাত্রীর আত্মহত্যার খবর মিলেছে। এর দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে ইস্তফা দিতে হবে, এই দাবিতেই আন্দোলন শুরু করে ককরোচ জনতা পার্টি।
ভারতের সংসদে বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংসদ ভবনের দিকে এগোতে শুরু করেন আন্দোলনকারীরা।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে সাক্ষাতে যান এই সংগঠনটির দুজন প্রতিনিধি।
ইনস্টাগ্রামে বিবিসি বাংলা ফলো করতে ক্লিক/ট্যাপ করুন এখানে
ছবির উৎস, Arun SANKAR / AFP via Getty Images
ভারতের রাজধানী দিল্লির প্রাণকেন্দ্র অর্থাৎ যন্তর মন্তর থেকে সংসদ ভবন যাওয়ার পথে সুরক্ষা ব্যবস্থা আঁটসাঁট করা হয়েছিল সকাল থেকেই। উপস্থিত ছিল সশস্ত্র কেন্দ্রীয় পুলিশ বাহিনী সিআরপিএফ ও ব়্যাপিড অ্যাক্শন ফোর্স বা ব়্যাফ।
পুলিশের হাতে কাঁদানে গ্যাস তো মজুত ছিলই, সঙ্গে ছিল জলকামান, সাঁজোয়া গাড়ি, পিকআপ ভ্যান এবং ব্যারিকেড।
রোববারই দিল্লি পুলিশ একটি বিবৃতি দিয়ে জানায় যে কোনও রকম মিছিলের অনুমতি চাওয়া হয়নি এবং দিল্লি পুলিশ কোনও মিছিলের অনুমতি দেয়ওনি। ফলে যে কোনও জমায়েত ও মিছিলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে পারে দিল্লি পুলিশ।
অন্যদিকে এই সব আয়োজন উপেক্ষা করেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ প্রথমে জড়ো হয়েছিলেন যন্তর মন্তরে অনশন মঞ্চের কাছে।
ঐ প্রতিবাদ মিছিলে উপস্থিত এক ছাত্রী সুনিষ্কা রায়চৌধুরী বিবিসি বাংলাকে জানালেন, "নিট পরীক্ষায় যারা বসেন, তারা বছরের পর বছর রাত জেগে পড়াশোনা করেন। সেখানে পরীক্ষা বাতিল হয়ে গেলে ছাত্ররা অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে।"
কলকাতার বেহালা থেকে প্রতিবাদে অংশ নিতে দিল্লি পৌছেছেন ঈশিতা দত্ত, বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, "এতজন বাচ্চা আত্মহত্যা করেছে, এটা কোনও ছোটো কথা নয়। দেশের যুবসমাজ প্রতিবাদ করলেই তাদের বার বার 'দেশবিরোধী' বলে দমিয়ে দেওয়া হয়েছে কিন্তু তারা আর ভয় পায় না।"
End of বিবিসি বাংলায় আরও পড়তে পারেন
ছবির উৎস, Sajjad HUSSAIN / AFP via Getty Images
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
সকাল দশটায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণের মাধ্যমে সূচনা হয় সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন। তখনই যন্তর মন্তর থেকে পার্লামেন্ট ভবনের দিকে এগোতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। প্রথমেই তারা পুলিশের লাঠি চার্জের মুখোমুখি হন।
আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছিলেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং গত ২১ দিন ধরে অনশনরত শিক্ষাকর্মী ও পরিবেশ বিষয়ক আন্দোলনকারী সোনাম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো।
প্রতিবাদ মিছিলে বিবিসি বাংলা গিয়ে দেখতে পায় যে, রাইসিনা রোডের উপর যে ব্যারিকেড, তা টপকিয়ে প্রতিবাদী জনতা পৌছে গেছে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাছে।
বেলা গড়াতেই আন্দোলনকারীরা পৌঁছিয়ে যান সংসদ ভবনের কাছে রেল ভবন পর্যন্ত। সেখানে আগেই ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রেখেছিল পুলিশ। সেখানে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোঁড়া হয়। প্রায় ঘণ্টাখানেকের চেষ্টায় জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
একদিকে যখন সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছেন ককরোচ জনতা পার্টির সদস্যরা, তখন দিল্লির যন্তর মন্তরে কেরালা হাউসের সামনে পুলিশের দ্বারা সোনাম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমোর উপর পুলিশি হেনস্থার অভিযোগ ওঠে।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ এই কথা জানিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র সৌরভ দাস।
এছাড়াও তিনি দুপুর দু'টো পঞ্চাশ মিনিট নাগাদ লেখেন যে মুখ্য আন্দোলনকারী অভিজিৎ দীপকেকে পুলিশ 'তুলে নিয়েছে', অবশ্য পরে তিনিই জানান যে অভিজিৎ দীপকেকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়নি। কেরালা হাউসের সামনে বহু মানুষের জমায়েত হয়েছে।
এর পরেই দিল্লি পুলিশ একটি এক্স পোস্টে জানায় যে অভিজিৎ দীপকেকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়নি। দিল্লিবাসীদের গুজবে কান না দিতে অনুরোধ করে পুলিশ।
ছবির উৎস, x/@SauravDassss
দুপুর ১২টা নাগাদ ককরোচ জনতা পার্টির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও মুখপাত্র সৌরভ দাস সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ জানান যে তারা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন।
শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার কাছে হলফনামা জমা দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির দুই প্রতিনিধি সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা।
সেই হলফনামায় তারা তিনটি দাবি করেছেন, সোনাম ওয়াংচুককে হাসপাতাল থেকে দ্রুত মুক্তি দেওয়া, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা ও আত্মহত্যা করা প্রত্যেক নিট পরীক্ষার্থীর পরিবারকে এক কোটি টাকা করে সহায়তা প্রদান।
বিকেল ৪টে ২২ নাগাদ ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান যে, জেপি নাড্ডা তাদের আশ্বাস দিয়েছেন যে যন্তর মন্তরে প্রতিবাদস্থলে পুলিশি সক্রিয়তা কমানো হবে।
যদিও সৌরভ দাস জানিয়েছেন, দাবি পূরণ হওয়া না পর্যন্ত আন্দোলনে রাশ টানা হবে না।
সিজেপির দাবিকে সমর্থন জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা চেয়ে অনশনে বসেছিলেন সোনাম ওয়াংচুক। ১৮ই জুলাই সকালে তাকে দিল্লি পুলিশের একটি দল ধর্ণা মঞ্চ থেকে তুলে ভর্তি করে দেয় দিল্লির সরকারি সফদরজং হাসপাতালে।
এই ঘটনার পর থেকে তার স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে