নতুন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন ফুটবল দলের সবচেয়ে পরিচিত দুই তারকা যেন দুই ভাই।
নিকো উইলিয়ামস ১২ই জুলাই ২৪ বছরে পা দিয়েছেন, আর লামিন ইয়ামাল ১৩ই জুলাই পূর্ণ করেন ১৯ বছর।
আরও পড়ুন
আজ রাতেই অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন নাহিদ, আগে যাচ্ছেন তাসকিনও
তাদের বয়স কম হলেও, রোববার বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে স্পেনের ১-০ ব্যবধানে জয়ের মধ্য দিয়ে এই দুই ফুটবলারের ঝুলিতে ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত দুটি শিরোপা যুক্ত হয়েছে: ২০২৬ বিশ্বকাপ ও ২০২৪ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ।
মাঠের বাইরে তারা ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং টিকটকে তাদের মজার কোরিওগ্রাফি করতে দেখা যায়।
তারা অবিচ্ছেদ্য এবং সাম্প্রতিক দশকগুলোয় অভিবাসনের মাধ্যমে বদলে যাওয়া একটি দেশেরও প্রতীক।
"তারা স্পেনের গর্ব, তারা নতুন স্পেনের ইতিবাচক প্রতীক," ২০২৪ সালে স্প্যানিশ জাতীয় দল ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর বিবিসি নিউজ মুনদোকে বলেছিলেন ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির নেতৃত্ব ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোইসেস রুইস।
"তারা দুই তরুণ স্প্যানিয়ার্ড, যাদের পারিবারিক ইতিহাস কষ্ট ও সংগ্রামে ভরা। তারা প্রতিকূলতার সন্তান, বিনয় ও প্রতিভার দুটি উদাহরণ," বলেন রুইস।
কিন্তু এই খেলোয়াড়দের গল্প কী এবং তারা কীভাবে সুপারস্টার হয়ে উঠলেন?
বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল ফলো করতে এখানে ক্লিক/ট্যাপ করুন
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
নিকো এবং তার বড় ভাই ইনিয়াকি উইলিয়ামস, যিনি অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের আরেকজন ফুটবলার, স্পেনেই তাদের জন্ম ও বেড়ে ওঠা।
তাদের গল্প আশাবাদ, অভিবাসন, দুর্ভোগ, কঠোর পরিশ্রম, দৃঢ়তা ও সংহতির কথা বলে।
দুই ভাইয়ের মা মারিয়া ১৯৯৪ সালে স্বামী ফেলিক্সকে নিয়ে ইউরোপে একটি ভালো জীবনের সন্ধানে ঘানা ছেড়েছিলেন। তখন তিনি ইনিয়াকিকে গর্ভে ধারণ করেছিলেন।
তারা যাত্রার অধিকাংশ পথই হেঁটে অতিক্রম করেছিলেন, যার মধ্যে সাহারা মরুভূমির একটি অংশও ছিল।
বহু বছর পরে, নিকো নিজেই একটি স্প্যানিশ গণমাধ্যমকে বলেছিলেন যে তার মা যাত্রাপথের কিছু অংশ 'খালি পায়ে' অতিক্রম করেছিলেন।
ওই দম্পতি উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের এনক্লেভ মেলিয়ায় পৌঁছান। রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার জন্য তাদের পরামর্শ দেওয়া হয় যেন তারা বলেন যে তারা যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশ থেকে পালিয়ে এসেছেন।
তাই তারা দাবি করেন যে তারা লাইবেরিয়া থেকে এসেছেন, যে দেশটি তখন সংঘাতে বিপর্যস্ত ছিল।
"অনেক বছর ধরে আমি বিশ্বাস করতাম তারা লাইবেরিয়া থেকে এসেছেন। সে সময় আমি অভিবাসীদের সহায়তায় কারিতাসের একটি দলে কাজ করতাম," বিবিসি নিউজ মুনদোকে বলেন ইনিয়াকি মারদোনেস আহা। এই সাবেক যাজক বর্তমানে সান্তান্দারের মারকেস দে ভালদেসিলা হাসপাতালে ক্যাথলিক ধর্মীয় সেবা বিভাগে কর্মরত।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, সে সময় সরকার মেলিয়ায় থাকা একদল অভিবাসীকে স্পেনের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠিয়েছিল।
"নিকোর বাবা-মা কারিতাসের সহায়তায় বিলবাওয়ে এসেছিলেন। আমি ইংরেজি জানতাম বলে আমাকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাই আমি তাদের রেলস্টেশনে নিতে যাই। প্রতিবেদনে লেখা ছিল তারা স্প্যানিশ ভাষায় পাঁচ পেয়েছেন। আমি তাদের সঙ্গে স্প্যানিশে কথা বলা শুরু করলাম, কিন্তু তাদের হতভম্ব দেখাচ্ছিল। পরে ইংরেজিতে কথা বলতেই তারা স্বাভাবিক হলো," তিনি স্মরণ করেন।
End of বিবিসি বাংলায় আরো পড়তে পারেন:
মারদোনেস জানান, প্রথম কয়েকদিন তারা একটি বোর্ডিং হাউসে ছিলেন, পরে তাদের জন্য একটি অ্যাপার্টমেন্টের ব্যবস্থা করা হয়।
একদিন তিনি তাদের খোঁজ নিতে গেলে গর্ভবতী মারিয়া তাকে বলেন যে তিনি কিছু অসুবিধা অনুভব করছেন।
মারদোনেস আর সময় নষ্ট করেননি, "আমি তাকে বললাম, চলুন হাসপাতালে যাই!"
এরপর তারা হাসপাতালে যান এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানতে পারেন যে "তার জরায়ুমুখ সামান্য প্রসারিত হয়েছে"।
তিনি ফেলিক্সকে নিয়ে ক্যাফেটেরিয়ায় যান। কিছু সময় পর তাদের জানানো হয় যে শিশুটির জন্ম হয়েছে। তার নাম রাখা হয় ইনিয়াকি।
"জন্ম নিতে যাওয়া একটি শিশুর নাম আপনার নামে রাখার অনুমতি চাওয়া সবসময়ই অসাধারণ উপহার, বিরাট সম্মানের বিষয়। আর পরে সেই ছেলে আজ যেখানে পৌঁছেছে, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য," তিনি বলেন।
"আমাদের আলাদা করে চেনার জন্য তাদের মা বলতেন, 'ছোট ইনিয়াকি, বড় ইনিয়াকি'। আর বহু বছর পরে আমি যখন তাদের সঙ্গে ছিলাম, তখন বলেছিলাম এখন বিষয়টি উল্টো হয়েছে, 'বড় ইনিয়াকি এখন খেলোয়াড়'।"
পরবর্তীতে তাদের বাবা-মাকে একটি খামারে কাজ দেওয়া হয়। ইনিয়াকিকে স্কুলে ভর্তি করানোর সময় পরিবারটি পাম্পলোনায় চলে যায়। এটি স্পেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নাভারা প্রদেশের রাজধানী।
সেখানেই ২০০২ সালে, বড় ভাইয়ের আট বছর পরে জন্ম নেন উইলিয়ামস পরিবারের ছোট সন্তান নিকোলাস উইলিয়ামস আর্থার।
"আমার বাবা-মা নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলেছিলেন যাতে আমি এবং আমার ভাই আরও ভালো ভবিষ্যৎ পেতে পারি। আর তারা সফল হয়েছেন। বাবা-মা আমাদের জন্য যা করেছেন, তার জন্য আমি সবসময় কৃতজ্ঞ থাকব। তারা সংগ্রামী মানুষ। তারা আমাদের সম্মান, কঠোর পরিশ্রম এবং এই শিক্ষা দিয়েছেন যে কেউ আপনাকে বিনামূল্যে কিছু দেয় না," একবার বলেছিলেন নিকো।
"সত্যি বলতে, তাদের আমার বাবা-মা হিসেবে পেয়ে আমি খুবই গর্বিত। আর আমি সবসময় চেষ্টা করি যেন তারা আমাকে তাদের ছেলে হিসেবে নিয়ে গর্ব করতে পারেন।"
পরিবারের ভরণপোষণের জন্য ভালো কাজের সুযোগ না পেয়ে নিকোর বাবা ফেলিক্স উইলিয়ামস লন্ডনে চলে যান, যেখানে তিনি মূলত অভিবাসন চেয়েছিলেন। সেখানে তিনি কাজ করে দেশে টাকা পাঠাতেন।
তিনি চেলসি এলাকার একটি শপিং সেন্টারের ফুড কোর্টে টেবিল পরিষ্কারের কাজ করেন এবং নিরাপত্তারক্ষী হিসেবেও কাজ করেন। এমনকি চেলসি এফসির স্টেডিয়ামের প্রবেশপথেও।
তিনি ১০ বছর পরিবারের থেকে দূরে ছিলেন। এরপর বিলবাওয়ে ফিরে আসেন। এই সময়ে নিকোর কাছে বাবার ভূমিকা পালন করতেন বড় ভাই ইনিয়াকি, আর তাদের মা পরিবার চালাতে একসঙ্গে তিনটি পর্যন্ত কাজও করেছেন।
নিকোর বড় ভাই তাকে স্কুল থেকে নিয়ে আসতেন এবং ক্লাসের পরে খাবার দিতেন।
কীভাবে আচরণ করলে একজন শীর্ষ পর্যায়ের ক্রীড়