বাংলাদেশে অনুপ্রবেশে দুর্গম পাহাড়ের গোপন পথকে বেছে নিয়েছেন রোহিঙ্গারা; বিশ্বে কওমি শিক্ষার সবচেয়ে বড় কেন্দ্র হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ; স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কেউ যেন প্রার্থী হতে না পারে, ইসিকে সেই প্রস্তাব দিয়েছে জামায়াত— শনিবার ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকায় এমন খবর গুরুত্ব পেয়েছে।
দ্য ডেইলি স্টারের প্রধান খবর— Rohingyas coming in through hidden hill routes; অর্থাৎ পাহাড়ের গোপন পথ বেয়ে আসছে রোহিঙ্গারা।
আরও পড়ুন
নিপীড়নের বিরুদ্ধে মশাল জ্বেলে গানে গানে প্রতিবাদ শিক্ষার্থীদের
এতে বলা হয়েছে, বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় পাহাড়ের কোলে ফাত্রা পাড়ার অবস্থান, যেখানে 'ম্রো' জনগোষ্ঠীর বসবাস। এই এলাকা মিয়ানমার সীমান্ত থেকে এক কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে অবস্থিত।
গত ২০ মে রাতে এখানকার পাহাড়ের ঢালে প্রতিবেদনটির প্রতিবেদক অবস্থান নিয়ে দেখতে পান সারিবদ্ধভাবে একদল লোক মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন, যারা কি না রোহিঙ্গা। পরে তাদেরকে অনুসরণও করেন প্রতিবেদক।
সেই রাতে ও পরে এ নিয়ে অনুসন্ধান চালায় গণমাধ্যমটি। যেখানে ওঠে আসে, প্রায়ই রাতের বেলায় এমন দুর্গম বনাঞ্চলের পথ ধরে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে রোহিঙ্গারা।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে 'ফাত্রা পাড়া-ডোরিমুখ পাড়া-আলীকদম' রুটটি রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের জন্য বেশ ব্যবহৃত হচ্ছে।
বুচিটং, ইয়ংরিং ও লেলং পাড়ার পুরোনো প্রবেশপথগুলোতে এখন কড়া নজরদারি থাকায় আরও দুর্গম এবং কম নজরদারি থাকা পথের দিকে ঝুঁকছে রোহিঙ্গারা।
আলীকদম উপজেলার কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো বলেছেন, আলিকদমের পথটি রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশে সহজ। টেকনাফ বা উখিয়ায় তাদের নৌকায় করে সাগর পাড়ি দিতে হয়, যা তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে তারা বন ও ছড়ার মধ্য দিয়ে চলাচল করতে পারে।
পাহাড় বেয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ক্রাতপুং ম্রো আরও জানালেন, রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ করানোর চক্রে জড়িত মোটরসাইকেল চালকরা চেকপয়েন্টের আগেই বাহন থেকে তাদের নামিয়ে দেয়। তারা তখন সরু পথ বা পায়ে চলা পথ ধরে চেকপয়েন্ট পার হয়ে অপেক্ষা করে। এরপর আবার তাদেরকে মোটরসাইকেলে তুলে নেয়।
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম— বিশ্বে কওমি শিক্ষার্থীর প্রায় ৬০ শতাংশই বাংলাদেশে।
এই খবরে বলা হয়েছে, উনিশ শতকের মাঝামাঝি ভারতের উত্তর প্রদেশের ছোট্ট জনপদ দেওবন্দে যে শিক্ষাধারার সূচনা হয়েছিল, দেড় শতাব্দী পর সে ধারার সবচেয়ে বড় কেন্দ্র হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ।
দেশের সবচেয়ে বড় কওমি শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) তথ্য অনুযায়ী, তাদের অধীনে বর্তমানে নিবন্ধিত মাদরাসার সংখ্যা প্রায় ৩২ হাজার ৭৩০। এসব প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা আনুমানিক ৭০ লাখ।
এছাড়া, অন্যান্য কওমি বোর্ডের অধীনেও রয়েছে প্রায় ১০ হাজারের বেশি মাদরাসা। ফলে দেশে কওমি ধারার মোট প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪০ হাজার ছাড়িয়েছে।
বিশ্বের দেওবন্দি বা কওমি ধারার মাদরাসায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের প্রায় ৬০ শতাংশই এখন এ দেশের। আর পাকিস্তানের প্রায় তিন গুণ।
কওমি ধারায় শিক্ষার্থী বৃদ্ধিকে দেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতার প্রতিফলন বলে মনে করেন শিক্ষাবিদরা। কেননা দরিদ্র পরিবারের জন্য কওমি মাদরাসা এখন একটি বাস্তবসম্মত বিকল্প শিক্ষাব্যবস্থা।
১৯০১ সালে চট্টগ্রামের দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশে কওমি শিক্ষার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। পরে সারা দেশে বিস্তার লাভ করে কওমি শিক্ষা।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হাজার হাজার কওমি মাদরাসা পরিচালিত হলেও সেগুলো এখনো সরকারি নিবন্ধন কাঠামোর বাইরে।
ভারতে দেওবন্দি মাদরাসাগুলোর অধিকাংশ সরাসরি সরকারি নিবন্ধিত না হলেও যেসব সংগঠনের অধীনে এগুলো পরিচালিত হয়, সেগুলো আইনিভাবে নিবন্ধিত।
স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থিতা: নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব জামায়াতের— যুগান্তরের প্রধান সংবাদ এটি।
এই খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের পদধারী নেতাকর্মীদের প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য করার বিধান প্রস্তাবিত আচরণ বিধিমালায় যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়ে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
চিঠিতে বলা হয়েছে, 'সরকার কর্তৃক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো রাজনৈতিক দলের পদধারী বা সক্রিয় নেতাকর্মীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করার বিধান সংযোজন করতে হবে।'
ইসির কর্মকর্তারা জানান, এ ধরনের সুপারিশ যুক্ত করা হলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমন বিধান যুক্ত করেছে এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিশন। ফলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ওই নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি।
অবশ্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে হওয়ার যুক্তিতে আচরণ বিধিমালায় ওই বিধান যুক্ত করার বিষয়ে ইসি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।
End of বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:
আ. লীগ আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত ২২ হাজার পুলিশ ঝুঁকিতে— দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম এটি।
এই খবরে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিশেষ রাজনৈতিক বিবেচনায় এবং দলীয় কোটায় নিয়োগ পাওয়া পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া প্রায় গুছিয়ে এনেছে পুলিশ সদর দপ্তর।
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, কনস্টেবল থেকে শুরু করে উপপরিদর্শক (এসআই) এবং সহকারী উপ-পরিদর্শকসহ (এএসআই) বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়োগের নথিপত্র যাচাই করেছেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। এতে সব মিলিয়ে প্রায় ২২ হাজার নিয়োগে অনিয়ম ও অস্বচ্ছতা পাওয়া গেছে।
তদন্তে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ আমলে ১০টি জেলা থেকে পুলিশ বাহিনীতে সবচেয়ে বেশি জনবল নেওয়া হয়। তাদের বড় অংশই তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন।
এছাড়া, প্রভাবশালী নেতাদের ডিও লেটার (আধা-সরকারি পত্র) ও মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের বিনিময়েও অন