নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ইসমাইল হোসেনকে ৫০টি ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স–সংলগ্ন তুলাতুলি মোড় থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ইসমাইল হোসেন তিন বছর আগে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগ দেন। প্রায় ৯ মাস ধরে তিনি হাসপাতালটিতে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর স্ত্রীও একজন চিকিৎসক এবং একই হাসপাতালে কর্মরত।

তদন্ত করবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, অভিযানে যাচ্ছে ঔষধ প্রশাসন আরও পড়ুন তদন্ত করবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, অভিযানে যাচ্ছে ঔষধ প্রশাসন

পুলিশ বলছে, এই চিকিৎসক নিয়মিত ইয়াবা সেবন ও বিক্রি করে আসছিলেন। বিষয়টি হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসীও জানত।

পুলিশ জানায়, গতকাল সন্ধ্যায় রায়পুরা থানার পুলিশ একটি সূত্রের মাধ্যমে খবর পান যে কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে একজন ব্যক্তি ইয়াবা নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় রায়পুরায় যাচ্ছেন। খবর পেয়ে পুলিশ তুলাতুলি মোড়ে অবস্থান নেন। এ পথে চলাচলকারী সব সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার একমাত্র যাত্রী হিসেবে থাকা ইসমাইল হোসেনকে ৫০টি  ইয়াবাসহ আটক করা হয়।

বিজ্ঞাপন

রায়পুরা থানার উপপরিদর্শক শফিউল্লাহ শিকদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আটক ইসমাইল হোসেন যে একজন চিকিৎসক এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও তা আমাদের জানা ছিল না। চিকিৎসক পরিচয় না দিয়ে তিনি পুলিশকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেছেন। ওসির কক্ষে নেওয়ার পর তিনি নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হই। এরপর তাঁর স্ত্রী ও সহকর্মীরা থানায় আসেন।’

মাদকের কারণে দাম্পত্য জীবনে চরম অশান্তি বলে ইসমাইলের স্ত্রী পুলিশকে জানিয়েছেন বলে তাঁদের ভাষ্য। গত কয়েক বছরে দফায় দফায় চেষ্টা করেও তাঁকে পুনর্বাসনকেন্দ্রে (রিহ্যাব) পাঠানো সম্ভব হয়নি।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে রাতেই মাদকের মামলা হয়েছে। আজ শনিবার দুপুরের মধ্যেই তাঁকে নরসিংদী আদালতে পাঠানো হবে।