রোববার ঢাকার গুলশানে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর দুইটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে ফ্ল্যাট দুইটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটি ফ্ল্যাট দুটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সেখানে থাকা সামগ্রীর তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে। চোখ রাখুন বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায়...

মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে

একাধিক রাজ্যে ধরপাকড়, ককরোচেরা উদ্বিগ্ন আরও পড়ুন একাধিক রাজ্যে ধরপাকড়, ককরোচেরা উদ্বিগ্ন

ইসলামের সমাবেশকে ঘিরে তের বছর আগে সংঘটিত ‘হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের’ অভিযোগে

করা মামলার খসড়া তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ

বিজ্ঞাপন

ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

দুপুরে ট্রাইব্যুনালের চিফ

প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম এক ব্রিফিং এ খসড়া প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

তিনি

বলেছেন, “২০১৩ সালের পাঁচই মে শাপলা চত্বরের যে নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল। সেই

বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘদিন যাবত আমাদের তদন্ত সংস্থা ইনভেস্টিগেশন করেছে। ইনভেস্টিগেশন

শেষে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে একটা খসড়া রিপোর্ট তারা সাবমিট করেছে। সেই খসড়া

রিপোর্টটা এখন চিফ প্রসিকিউটর পর্যালোচনা করবেন।”

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “আমরা মনে করেছি,

যাতে একটি সঠিক তদন্ত হয়, একটা স্বচ্ছ বিচার হয় এবং প্রকৃত আসামি যারা তারা যাতে

বিচারের সম্মুখীন হয়। খসড়া রিপোর্টটি আমরা পর্যালোচনা করে দেখছি, হয়তো শিগগির আমাদের

কাছে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট আসবে, আসার পরে আমি বাদী হয়ে একটা ফরমাল চার্জ দাখিল করবো

এবং স্বাভাবিকভাবে বিচার শুরু হবে।”

তবে, আসামিদের পূর্ণাঙ্গ

তালিকা প্রকাশ করতে চাননি চিফ প্রসিকিউটর।

“শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে

প্রাথমিক প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। সেখানে পুলিশ প্রধান, বিজিবি প্রধানসহ এইরকম

কয়েকজন আমরা মোটাদাগে বলতেই পারি তাদের বিরুদ্ধে একটা খসড়া রিপোর্ট এসছে। সেটা আমরা

যাচাই-বাছাই করে দেখবো” বলেন মি. ইসলাম।

হেফাজতে ইসলামের অন্যতম একজন নেতা আজিজুল হক ইসলামাবাদী মামলাটি করেছেন।

প্রসিকিউশনের আমন্ত্রণে মামুনুল হক ও আজিজুল হক ইসলামাবাদীসহ হেফাজতের কেয়কজন নেতা আজ মামলাটির অগ্রগতি

জানতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যান। তারা চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে বৈঠক করেন।

প্রসঙ্গত, ব্লগারদের শাস্তির দাবিতে ২০১৩ সালের পাঁচই মে মতিঝিলে সমাবেশ ডাকে

হেফাজতে ইসলাম। সেদিন সেই সমাবেশ ঘিরে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে মামলার তদন্ত এখন শেষপর্যায়ে এসেছে বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

ছবির উৎস, FACEBOOK/TANVEE

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

ফেসবুক ডেস্কটপে ব্যবহারে বিপাকে পড়েছেন বাংলাদেশের ব্যবহারকারীরা। তবে, মোবাইলে ফেসবুক ব্যবহারে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

রোববার দুপুর থেকে এই

বিভ্রাট দেখা গেছে।

ব্যবহারকারীরা ডেস্কটপে

ফেসবুক ব্যবহার করতে গেলে একাউন্ট টেম্পরারিলি আনএভেইলেবল লেখা দেখাচ্ছে।

এতে বলা হচ্ছে, “ইয়োর একাউন্ট

ইজ কারেন্টলি আনএভেইলেবল ডিউ টু এ সাইট ইস্যু। উই এক্সপেক্ট দিস টু বি রিসলভড শর্টলি।

প্লিজ ট্রাই এগেইন ইন এ ফিউ মিনিটস।”

অর্থাৎ, অ্যাকাউন্টটি

সাময়িকভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

“সাইট সংক্রান্ত সমস্যার

কারণে আপনার অ্যাকাউন্টটি বর্তমানে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। শীঘ্রই এই সমস্যার

সমাধান হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। অনুগ্রহ করে কয়েক মিনিট পর আবার চেষ্টা করুন।”

তবে, বেলা একটা থেকে এই

প্রতিবেদন লেখার সময় সাড়ে তিনটা পর্যন্ত ডেস্কটপে ফেসবুক ব্যবহার করা যাচ্ছিল না।

এর আগে, গত মাসেও ফেসবুক

ব্যবহারে এমন সমস্যায় পড়েছিল বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যবহারকারীরা।

ঢাকার গুলশানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী

সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের দুইটি ফ্ল্যাট ক্রোকের অংশ হিসেবে সেখানে থাকা

সামগ্রীর তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

ঢাকার একটি বিচারিক আদালতের

নির্দেশে এই কাজ শুরু হয়েছে।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা

ও উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মি. ইসলাম বলেন, “আদালতের

নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা, সম্পদ ব্যবস্থাপনা

বিভাগের কর্মকর্তা, গুলশান থানা পুলিশের যৌথ টিম গুলশানের দুইটি ফ্ল্যাটের তালা

ভেঙে সব সামগ্রী, মালামালের ইনভেন্টরি তৈরির কাজ করছে।”

রোববার সকালে সাড়ে দশটা

নাগাদ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দুদকের উপপরিচালক মশিউর রহমানের নেতৃত্বে

এই কাজ শুরু করা হয়েছে।

গুলশানের ৬৬ নম্বর সড়কের

নর্থওয়েস্ট(বি) ব্লকের ১১ নম্বর প্লটে ফ্ল্যাট দুইটির অবস্থান।

এর মধ্যে এ-৭ নম্বর

ফ্ল্যাটের আয়তন তিন হাজার ৭৪৭ বর্গফুট এবং বি-৭ নম্বর ফ্ল্যাটের আয়তন তিন হাজার

৮৩২ বর্গফুট।

দুইটি ফ্ল্যাটের মোট আয়তন সাত

হাজার ৫৭৯ বর্গফুট।

২০২৫ সালের ১৮ই নভেম্বর মি.

চৌধুরীর এই ফ্ল্যাট দু্ইটি ক্রোকের আদেশ দেয় ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত।

আদালতের আদেশে দুদকের

সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পরিচালককে ফ্ল্যাট দুটির নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে

এগুলো তালা বন্ধ থাকার কারণে তিনি সেখানে ঢুকতে পারছিলেন না।

পরে দুদকের করা আরেকটি আবেদনের

প্রেক্ষিতে ২৯শে এপ্রিল তালা খুলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তাকে ওই ফ্ল্যাট দুটিতে প্রবেশ ও মালামালের তালিকা

তৈরির অনুমতি দেওয়া হয়।

একইসঙ্গে সাবেক

ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং ভবনটির ব্যবস্থাপক ইমরান হোসেনকেও নির্ধারিত

সময়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয়।

চলতি বছরের ১৩ই জানুয়ারি

দুদকের আবেদনে মি. চৌধুরীর যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফিলিপিন্স, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে থাকা ৩৩০টি বাড়ি, ফ্ল্যাট

ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের আদেশ দেয় আদালত।

আরো পড়তে পারেন: যুক্তরাজ্যে শেখ হাসিনা ঘনিষ্ঠদের ৪০ কোটি পাউন্ডের সাম্রাজ্য, এগুলোর কী হবে

'বিদেশের ব্যবসা আমি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি'- দাবি সাবেক ভূমিমন্ত্রীর

বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায় আপনাদের স্বাগত। দেশ ও বিশ্বের উল্লেখযোগ্য ঘটনার সর্বশেষ খবর পেতে চোখ রাখুন বিবিসি বাংলার এই পাতায়।

ভিসানীতিতে পরিবর্তন- জটিলতায় পড়তে পারেন যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা?